সুজুকি অল্টো রিভিউ বাংলাদেশ – ছোট গাড়ির দাম, ফিচারস ও ফুয়েল ইকোনমি

 প্রকাশ: ২৫ অগাস্ট ২০২৫, ০৫:০৪ অপরাহ্ন   |   গাড়ি , নিউজ ও রিভিউ

সুজুকি অল্টো রিভিউ বাংলাদেশ – ছোট গাড়ির দাম, ফিচারস ও ফুয়েল ইকোনমি

সুজুকি অল্টো রিভিউ বাংলাদেশ – ছোট গাড়ির দাম, ফিচারস ও ফুয়েল ইকোনমি

আমি যখন ঢাকার জ্যামের কথা চিন্তা করি, তখন আমার চোখে সবার আগে ভেসে ওঠে একটি ছোট কিন্তু কার্যকর গাড়ির ছবি। সেটি হলো সুজুকি অল্টো। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই গাড়িটি কেবল একটি বাহন নয়, বরং একটি আবেগ। দীর্ঘ সময় ধরে আমি গাড়িটির পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করেছি এবং আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব একটি বিস্তারিত সুজুকি অল্টো রিভিউ। আপনি যদি প্রথমবার গাড়ি কেনার কথা ভাবেন, তবে এই গাইডটি আপনার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।

১. সুজুকি অল্টো: বাংলাদেশের জনপ্রিয়তার রহস্য

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বাংলাদেশে সুজুকি অল্টো এর জনপ্রিয়তার পেছনে মূল কারণ হলো এর অবিশ্বাস্য সাশ্রয়ী মূল্য এবং স্থায়িত্ব। যখন একজন সাধারণ চাকরিজীবী বা ছোট ব্যবসায়ী প্রথমবার গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করেন, তখন তাদের বাজেটে এই গাড়িটি সবার আগে স্থান পায়। সুজুকি অল্টো রিভিউ বাংলাদেশ লিখার সময় আমি দেখেছি যে, মানুষ এটিকে কেন পছন্দ করে। এটি ছোট গলি দিয়ে সহজেই চলতে পারে এবং পার্কিং করার জন্য বিশাল জায়গার প্রয়োজন হয় না, যা আমাদের ঢাকা শহরের জন্য একটি বিশাল আশীর্বাদ।

তাছাড়া, মারুতি সুজুকি ব্র্যান্ডের ওপর মানুষের যে দীর্ঘদিনের ভরসা, সেটি অল্টোকেও জনপ্রিয় করেছে। এর সহজ মেকানিজম এবং সাধারণ ইঞ্জিন হওয়ার কারণে দেশের যেকোনো প্রান্তের মেকানিক এটি মেরামত করতে পারেন। আমি যখন অনেক পুরনো অল্টো ব্যবহারকারীদের সাথে কথা বলেছি, তারা জানিয়েছেন যে ১০-১৫ বছর ব্যবহারের পরেও গাড়িটি ঠিকমতো সার্ভিস দিচ্ছে। এই স্থায়িত্বই মূলত বাংলাদেশে এই ছোট গাড়ির দাম এর সার্থকতা প্রমাণ করে। এটি কেবল একটি শহর কেন্দ্রিক গাড়ি নয়, বরং গ্রামের এবড়োখেবড়ো রাস্তাতেও এটি বেশ পারদর্শী।

তথ্য বক্স ১: বাংলাদেশে বর্তমানে অল্টো ৮০০ এবং অল্টো কে-১০ এই দুই ভ্যারিয়েন্ট সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এর মধ্যে ৮০০ সিসি মডেলটি সাধারণ যাতায়াতের জন্য বেশি বিক্রয় হয়।

২. এক্সটেরিয়র ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি

ডিজাইনের কথা বললে, সুজুকি অল্টো একটি খুব সাধারণ কিন্তু আধুনিক লুক বহন করে। আমি যখন গাড়িটির সামনের দিকে তাকাই, তখন এর বড় হেডলাইট এবং স্মাইলি গ্রিল আমাকে মুগ্ধ করে। এটি খুব বেশি অ্যারোডাইনামিক না হলেও শহরের রাস্তায় চলাচলের জন্য এর গঠন বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর বডি প্যানেলগুলো বেশ হালকা কিন্তু শক্তপোক্তভাবে লাগানো। যারা নতুন গাড়ি চালানো শিখছেন, তাদের জন্য এই গাড়ির ভিউ বা চারপাশের দৃশ্যমানতা অনেক ভালো, যা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।

গাড়িটির পেছনের অংশটি বেশ সিম্পল এবং ক্ল্যাসিক। এর চাকাগুলো ছোট হলেও বডির সাথে বেশ মানানসই। তবে আমি বলব, হাইওয়েতে চালানোর সময় বাতাসের ধাক্কায় গাড়িটি কিছুটা কাঁপতে পারে যেহেতু এটি একটি ওজনে হালকা গাড়ি। বিল্ড কোয়ালিটির ক্ষেত্রে এটি প্রিমিয়াম সেডানের মতো না হলেও এর সেগমেন্টে এটি অন্যতম সেরা। রঙের ক্ষেত্রে সুজুকি সবসময়ই উজ্জ্বল রঙ অফার করে, যা তরুণ প্রজন্মের পছন্দ। ব্যক্তিগতভাবে আমার সিলভার বা উজ্জ্বল লাল রঙের অল্টোটি সবচেয়ে বেশি পছন্দের।

রঙ এবং ফিনিশিং

বাংলাদেশে অল্টো মূলত সিলভার, গ্রে, লাল এবং সাদা রঙে বেশি পাওয়া যায়। আমি দেখেছি যে সিলভার রঙটি ময়লা কম দেখায় বলে ঢাকার রাস্তার জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত। পেইন্ট কোয়ালিটি বেশ ভালো এবং কয়েক বছর রোদে বা বৃষ্টিতে থাকলেও সহজে রঙ চটে যায় না।

৩. ইন্টেরিয়র স্পেস এবং আরামদায়কতা

ইন্টেরিয়রের ক্ষেত্রে আমি বলব, সুজুকি অল্টো আপনাকে অবাক করবে। বাইরে থেকে যতটা ছোট মনে হয়, ভেতরে বসার জায়গা কিন্তু তার চেয়েও বেশি। আমি যখন ড্রাইভিং সিটে বসি, তখন লেগ স্পেস এবং হেড রুম নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকে না। ড্যাশবোর্ডটি বেশ সিম্পল এবং ব্যবহার করা খুব সহজ। সব কন্ট্রোল বা বাটন হাতের নাগালেই থাকে। প্লাস্টিক কোয়ালিটি মোটামুটি, তবে এই বাজেটে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা কঠিন। এতে এসি পারফরম্যান্স বেশ শক্তিশালী, যা আমাদের গরমের দেশের জন্য খুবই জরুরি।

পেছনের সিটে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বসা কিছুটা কঠিন হতে পারে, তবে দুজন বড় মানুষ এবং একজন শিশু আরামেই বসতে পারবে। আমার মতে, এটি একটি আদর্শ ৪ সদস্যের পরিবারের গাড়ি। বুট স্পেস বা মালামাল রাখার জায়গা খুব বেশি নয়, তবে বাজারের ব্যাগ বা ছোট ট্রাভেল ব্যাগ অনায়াসেই রাখা যায়। দীর্ঘ যাত্রায় পেছনের যাত্রীরা কিছুটা ক্লান্ত বোধ করতে পারেন কারণ সিটের কুশন খুব বেশি মোটা নয়। তবুও প্রতিদিনের অফিস বা স্কুল ড্রপের জন্য এটি একটি সেরা পছন্দ।

তথ্য বক্স ২: অল্টোর নতুন মডেলগুলোতে এখন টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি যুক্ত করা হয়েছে, যা আগে ছিল না।

৪. ইঞ্জিন পারফরম্যান্স এবং ড্রাইভ অভিজ্ঞতা

সুজুকি অল্টো গাড়িতে সাধারণত ৮০০ সিসি বা ১০০০ সিসি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। আমি ৮০০ সিসি মডেলটি চালিয়ে দেখেছি, এটি শহরের জ্যামে দারুণ পারফর্ম করে। প্রথম গিয়ারে গাড়িটি বেশ দ্রুত পিকআপ নিতে পারে। তবে এসি চালু থাকলে ইঞ্জিনের ওপর কিছুটা চাপ পড়ে, যা স্বাভাবিক। ১০০০ সিসি বা কে-১০ ইঞ্জিনটি আরও বেশি শক্তিশালী এবং এটি হাইওয়েতে ওভারটেক করার সময় আপনাকে বাড়তি সাহস দেবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইঞ্জিনটির শব্দ বেশ স্মুথ এবং ভাইব্রেশন কম অনুভব করেছি।

ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার কথা বললে, এর ছোট টার্নিং রেডিয়াস আমাকে মুগ্ধ করেছে। সরু রাস্তায় গাড়িটি ইউ-টার্ন নেওয়া খুবই সহজ। স্ট্রিয়ারিং হুইল বেশ হালকা, তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে গাড়ি চালালেও হাতে খুব বেশি ব্যথা হয় না। গিয়ার শিফটিং বেশ স্মুথ এবং ক্লাচও অনেক নরম। হাই স্পিডে গেলে (৮০ কিমি/ঘণ্টার ওপরে) ইঞ্জিন কিছুটা গর্জন করতে শুরু করে। তবে শহরের সাধারণ গতিতে গাড়িটি একদম শান্ত থাকে। এটি মূলত একটি রিলাক্সড ড্রাইভিং এর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

ইঞ্জিন প্রযুক্তি

সুজুকি তাদের এই ইঞ্জিনে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে যা বছরের পর বছর কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই চলতে পারে। বিশেষ করে এর ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেমটি বেশ উন্নত, যা জ্বালানি খরচ কমাতে সাহায্য করে। আমি মনে করি, এই সেগমেন্টে সুজুকির ইঞ্জিনের নির্ভরযোগ্যতা অতুলনীয়।

৫. ফুয়েল ইকোনমি বা মাইলেজ টেস্ট

একজন বাঙালি হিসেবে গাড়ি কেনার সময় আমরা যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি করি তা হলো— "মাইলেজ কত দেয়?" আমি যখন সুজুকি অল্টো রিভিউ বাংলাদেশ তৈরি করছিলাম, তখন আমার কাছে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য ছিল এর মাইলেজ। শহরের জ্যামের মধ্যেও এটি প্রতি লিটারে প্রায় ১৬-১৮ কিলোমিটার মাইলেজ দেয়। আর যদি আপনি হাইওয়েতে ড্রাইভ করেন, তবে এটি লিটার প্রতি ২০-২২ কিলোমিটার পর্যন্ত অনায়াসেই দিতে পারে। এই কারণেই যারা জ্বালানি খরচ নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য এটি এক নম্বর চয়েস।

বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সুজুকি অল্টো কেনা একটি বড় সাশ্রয়। অনেক ব্যবহারকারী এতে এলপিজি বা সিএনজি কনভার্ট করে চালান, তাতে খরচ আরও কমে আসে। তবে আমার পরামর্শ হলো, এর আসল পারফরম্যান্স পেতে পেট্রোল বা অকটেন ব্যবহার করা ভালো। এর ফুয়েল ট্যাঙ্ক ক্ষমতা ৩৫ লিটার, যা একবার পূর্ণ করলে আপনি দীর্ঘ পথ নিশ্চিন্তে চলতে পারবেন। ফুয়েল ইকোনমির দিক থেকে আমি অল্টোকে ১০ এর মধ্যে ৯ দিব।

বৈশিষ্ট্য অল্টো ৮০০ সিসি অল্টো কে-১০ (১০০০ সিসি)
শহরে মাইলেজ ১৭-১৮ কিমি/লিটার ১৫-১৬ কিমি/লিটার
হাইওয়ে মাইলেজ ২২ কিমি/লিটার ২০ কিমি/লিটার
সর্বোচ্চ শক্তি (BHP) ৪৭.৩ ৬৭
ফুয়েল ট্যাঙ্ক ৩৫ লিটার ৩৫ লিটার

৬. বাংলাদেশে সুজুকি অল্টো গাড়ির দাম ও খরচ

গাড়ি কেনার আগে সুজুকি অল্টো গাড়ির দাম জানাটা সবচেয়ে জরুরি। বাংলাদেশে এই গাড়ির দাম মূলত রেজিস্ট্রেশন, মডেল ইয়ার এবং কন্ডিশনের ওপর নির্ভর করে। নতুন অল্টো ৮০০ এর দাম বর্তমানে ১২ থেকে ১৪ লক্ষ টাকার মধ্যে উঠানামা করে। আপনি যদি সেকেন্ড হ্যান্ড বা ব্যবহৃত গাড়ি কিনতে চান, তবে ৫ থেকে ৮ লক্ষ টাকার মধ্যে বেশ ভালো মানের গাড়ি পেতে পারেন। আমি মনে করি, এই বাজেটে একটি ফ্যামিলি কার পাওয়া বাংলাদেশের বাজারে সত্যিই বিরল।

দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুল্ক বা ট্যাক্স একটি বড় ভূমিকা পালন করে। তবে অল্টোর সিসি কম হওয়ায় এর বার্ষিক ট্যাক্স টোকেন এবং ফিটনেস ফি অন্যান্য বড় গাড়ির তুলনায় অনেক কম। এটিও অল্টো কেনার একটি বড় সুবিধা। আমি যখন খরচ হিসাব করলাম, দেখলাম যে একটি বড় সেডান মেইনটেইন করার খরচে অনায়াসেই দুটি অল্টো চালানো সম্ভব। যারা ছোট গাড়ির দাম এর মধ্যে সেরা ভ্যালু খুঁজছেন, তাদের জন্য অল্টো ছাড়া অন্য কিছু ভাবা কঠিন।

তথ্য বক্স ৩: আপনি যদি বাজেট সাশ্রয় করতে চান, তবে ৩-৪ বছরের ব্যবহৃত অল্টো দেখতে পারেন। এতে আপনি প্রায় অর্ধেক দামে একটি ভালো গাড়ি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৭. সেফটি ফিচারস এবং ব্রেকিং সিস্টেম

সেফটির কথা বললে আমি বলব, সুজুকি অল্টো আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। নতুন মডেলগুলোতে এখন ড্রাইভার সাইড এয়ারব্যাগ, এবিএস (ABS) এবং ইবিডি (EBD) এর মতো ফিচার স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। এটি এই বাজেটের গাড়ির জন্য একটি বড় পাওয়া। তবে বডি মেটাল কিছুটা পাতলা হওয়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় এটি খুব বেশি সুরক্ষা নাও দিতে পারে। আমি সবসময় পরামর্শ দিই, এই গাড়িটি শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা ভালো এবং হাইওয়েতে চালানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি।

এর ব্রেকিং সিস্টেম বেশ কার্যকর। ডিস্ক এবং ড্রাম ব্রেকের কম্বিনেশন গাড়িটিকে দ্রুত থামাতে সাহায্য করে। পেছনের সিটে রিয়ার ডোর চাইল্ড লক দেওয়া আছে, যা বাচ্চাদের নিরাপত্তার জন্য ভালো। আমি যখন গাড়িটি টেস্ট ড্রাইভ করছিলাম, তখন ইমার্জেন্সি ব্রেক করে দেখেছি যে এটি খুব একটা স্কিড করে না। তবুও হাইওয়েতে বড় ট্রাক বা বাসের পাশে চালানোর সময় কিছুটা সাবধান থাকা উচিত। সামগ্রিকভাবে, শহরের প্রতিদিনের চলাচলের জন্য এর সেফটি ফিচারগুলো পর্যাপ্ত।

৮. মেইনটেইনেন্স এবং পার্টস সহজলভ্যতা

আমি মনে করি, একটি গাড়ির সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার খুচরা যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা। সুজুকি অল্টো এর ক্ষেত্রে এই কথাটি শতভাগ সত্য। বাংলাদেশের যেকোনো মফস্বল শহরের দোকানেও আপনি এর এয়ার ফিল্টার, অয়েল ফিল্টার বা ব্রেক প্যাড খুঁজে পাবেন। এর মেইনটেইনেন্স খরচ এতটাই কম যে, আপনি প্রতিবার সার্ভিসে খুব সামান্য খরচেই গাড়িটিকে নতুনের মতো রাখতে পারবেন। আমি নিজে দেখেছি, এর পার্টসের দাম একটি ভালো মানের স্মার্টফোনের চেয়েও কম!

ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন এবং নিয়মিত টিউনআপ করলে এই গাড়িটি বছরের পর বছর কোনো ঝক্কি ছাড়াই চলে। ঢাকার ধোলাইখাল বা বাংলামোটরে গেলে আপনি সেকেন্ড হ্যান্ড পার্টসও পানির দামে পাবেন। সার্ভিসিং এর জন্য আপনাকে বিশাল কোনো সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, আপনার পাড়ার মেকানিকই এটি সুন্দরভাবে সারিয়ে দিতে পারবে। এই "পিস অফ মাইন্ড" বা মানসিক প্রশান্তি আপনি দামি ইউরোপীয় গাড়িগুলোতে পাবেন না। সুজুকির এই সার্ভিস নেটওয়ার্কই অল্টোকে সাধারণ মানুষের প্রিয় করে তুলেছে।

রিসেল ভ্যালু

অল্টোর রিসেল ভ্যালু বাংলাদেশে চমৎকার। আপনি যদি আজ একটি অল্টো কেনেন এবং ২ বছর চালিয়ে বিক্রি করতে চান, তবে আপনি প্রায় কাছাকাছি দামেই সেটি বিক্রি করতে পারবেন। বাজারে এর চাহিদা সবসময় তুঙ্গে থাকে।

৯. অল্টো বনাম অন্যান্য ছোট গাড়ি

বাজার যাচাই করার সময় আমি অল্টোকে অন্যান্য ছোট গাড়ি যেমন মারুতি এস-প্রেসো বা টাটা ন্যানোর সাথে তুলনা করেছি। যদিও টাটা ন্যানো এখন আর বাজারে নেই, তবে এস-প্রেসো একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে অল্টোর ক্ল্যাসিক ডিজাইন এবং দীর্ঘদিনের সুনাম এটিকে এগিয়ে রাখে। এস-প্রেসোর ডিজাইন কিছুটা এসইউভি ঘরানার হলেও অল্টোর লো প্রোফাইল রাইড অনেক বেশি স্থিতিশীল। আমি দেখেছি যে অল্টোর চ্যাসিস ব্যালেন্স এস-প্রেসোর চেয়ে কিছুটা ভালো।

অন্যদিকে ব্যবহৃত রিকন্ডিশন্ড জাপানি গাড়ি যেমন টয়োটা পাসো বা ভিৎজ এর সাথে তুলনা করলে অল্টো কিছুটা পিছিয়ে থাকতে পারে ফিচারের দিক থেকে। কিন্তু সেই গাড়িগুলোর দাম এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অল্টোর চেয়ে অনেক বেশি। আপনি যদি জিরো মেইনটেইনেন্স এবং সর্বোচ্চ ফুয়েল সেভিং চান, তবে অল্টোই সেরা। জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির পার্টস অনেক সময় পাওয়া যায় না বা দাম অনেক বেশি হয়। সেই তুলনায় সুজুকি অল্টো রিভিউ এ আমি একেই বিজয়ী বলব সাশ্রয়ী হিসেবে।

তথ্য বক্স ৪: অল্টোর টার্নিং রেডিয়াস মাত্র ৪.৬ মিটার, যা একে শহরের জ্যামে সবচেয়ে চটপটে গাড়ি হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।

১০. আপনার কি সুজুকি অল্টো কেনা উচিত?

সবশেষে আমি বলব, আপনার যদি একটি ছোট পরিবার থাকে এবং আপনার বাজেট যদি সীমিত হয়, তবে চোখ বন্ধ করে সুজুকি অল্টো কিনতে পারেন। এটি এমন একটি গাড়ি যা আপনাকে কখনও মাঝরাস্তায় ফেলে আসবে না। আপনি যদি প্রতিদিন অফিসে যাতায়াতের জন্য একটি সাশ্রয়ী বাহন খুঁজছেন যেখানে এসির আরাম থাকবে, তবে অল্টো আপনার জন্য সেরা। এটি ড্রাইভ করা সহজ, মেইনটেইন করা সস্তা এবং বিক্রি করাও অনেক সহজ।

তবে আপনি যদি বড় ফ্যামিলির জন্য গাড়ি খুঁজেন বা ঘনঘন ঢাকার বাইরে লং ট্যুরে যেতে চান, তবে আমি পরামর্শ দেব অল্টো কে-১০ নিতে অথবা অন্য কোনো বড় সেডান দেখতে। ছোট গাড়ি হিসেবে এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু এর সুবিধার পাল্লাই বেশি ভারী। বিশেষ করে নতুন ড্রাইভারদের জন্য হাত পাকানোর জন্য অল্টোর চেয়ে ভালো গাড়ি আর হয় না। আমার ব্যক্তিগত রেটিং অনুযায়ী, বাজেট কার হিসেবে অল্টো একটি মাস্ট-বাই প্রোডাক্ট।

১১. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. বাংলাদেশে সুজুকি অল্টো ৮০০ এর বর্তমান দাম কত?
উঃ বাংলাদেশে নতুন সুজুকি অল্টো ৮০০ এর দাম বর্তমানে ১২.৫০ লক্ষ থেকে ১৪ লক্ষ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে শোরুম এবং ডিসকাউন্ট ভেদে এই দাম কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। আপনি যদি সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেটে খুঁজেন তবে ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকার মধ্যে ভালো কন্ডিশনের অল্টো পেতে পারেন। রেজিস্ট্রেশন এবং বিমা খরচ মিলিয়ে আপনাকে আরও কিছু অতিরিক্ত টাকা বাজেট রাখতে হবে।
২. অল্টো গাড়ির মাইলেজ আসলে কত পাওয়া যায়?
উঃ সুজুকি অল্টো তার অসাধারণ ফুয়েল ইকোনমির জন্য পরিচিত। আমি ব্যক্তিগত টেস্ট ড্রাইভ এবং ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে এটি শহরের ব্যস্ত রাস্তায় লিটার প্রতি ১৬-১৮ কিলোমিটার মাইলেজ দেয়। হাইওয়েতে ইকোনমি স্পিডে (৬০-৭০ কিমি/ঘণ্টা) চালালে এটি ২০-২২ কিমি/লিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম। এই সেগমেন্টে এটি অন্যতম সেরা ফুয়েল এফিসিয়েন্ট গাড়ি।
৩. ৫ জন মানুষ কি অল্টো গাড়িতে বসতে পারবে?
উঃ তাত্ত্বিকভাবে অল্টো একটি ৫ সিটার গাড়ি। তবে বাস্তবে পেছনের সিটে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বসলে কিছুটা গাদাগাদি হতে পারে। ছোট দূরত্বে চলার জন্য ৫ জন বসা সম্ভব হলেও দীর্ঘ যাত্রার জন্য ২ জন বড় মানুষ এবং ১ জন শিশু পেছনের সিটে বসা সবচেয়ে আরামদায়ক। এটি মূলত একটি ছোট সুখী পরিবারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।